এইচএসসি বিএম 2021 অ্যাসাইনমেন্ট প্রশ্নের উত্তর অর্থনীতি ও বাণিজ্যিক ভূগোল
(ক) ভিবাগ -অর্থনীতি
১নংপ্রশ্নেরঃ
(ক) উওর
ক)অভাব মানুষের মৌলিক পরিভাষায় মধ্যে অন্যতম।অর্থনীতির অনেক তও্ব এর উপর প্রতিষ্ঠিত। মানুষের বিভিন্ন প্রয়ৌজন মেটাতে পারে এমন সব বাস্তবগত দ্রব্যসামগ্রী পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা কে অভাব বলে। মানুষের অর্থনৈতিক কার্যাবলি মূল্য হল অভাববোধ ব্যক্তির কাছে নেই এমন কোন দ্রব্য বা সেবা পেতে হলে তার মনে যে অনুভূতি সৃষ্টি হয় তাকে বলে।
সম্পদঃ- মানব জীবনের অর্থনৈতিক সমস্যার মূল্যে রয়েছে সম্পদের স্বল্পতা বা দুষ্প্রাপ্যতা। সম্পদ বলতে মূলত অভাব পূরণের দব্য সামগ্রী এবং উৎপাদনের বিভিন্ন উপাদান যেমনঃ- ভূমি,শ্রম,মূলধন সংগঠন প্রভৃতিকে বুঝায়। মানুষের অভাব পূরণের জন্য প্রয়োজনীয় এইসব সম্পদ খুবই সীমিত। বাস্তবে মাষের অভাব আসীম হলেও অভাব পৃরনের প্রয়োজনীয় উপকরণ বা সম্পদ খুবই অপ্রতুল।
খ) সীমিত সম্পদ দ্বারা অসীম অভাব পূরণ করতে হলে মানুষের তিনটি মৌলিক বিষয় নির্বাচন বা বিবেচনা করতে হয় এই তিনটি বিষয় হলোঃ-
১- কি উৎপাদন করা হবে ,
2- কিভাবে উৎপাদন করা হবে,
3- কার জন্য উৎপাদন করা হবে!
নিম্নে এই বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হলো
1- কি উৎপাদন করা হবে: মানুষের অভাব পূরণের জন্য বিভিন্ন দ্রব্য সামগ্রী বা সেবাকর্ম উৎপাদন করা হয়। কিন্তু সীমিত সম্পদের দ্বারা সব দ্রব্য একইসাথে উৎপাদন করা সম্ভব নয়। যে দব্য সমাজে অধিক কল্যাণ সাধন করে এবং যে পরিমাণ উৎপাদন করলে সেই কল্যাণ সাধিত হয় ঠিক ততটুকু উৎপাদন করা সিদ্ধান্ত নিতে হবে
2- কিভাবে উৎপাদন করা হবে: প্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রী কিভাবে উৎপাদন করা হবে অর্থাৎ কোন উপাদানের কৌশল অবলম্বন করা হবে তা নির্বাচন করা সমাজের অন্যতম মৌলিক সমস্যা। কারন একই দ্রব্য বিভিন্ন পদ্ধতিতে এবং উপকরণ সমূহের বিভিন্ন অনুপাত এর সংমিশ্রণে মাধ্যমে উৎপাদন করা হয়। এই ক্ষেত্রে কিভাবে উৎপাদন করলে সমাজের উপকরণসমূহের কাম্য ব্যবহার নিশ্চিত হয় তা বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হয়
3- কার্জন উৎপাদন করা হবে: উৎপাদিত দ্রব্য সামগ্রিক কে বা কারা ভোগ করবে এবং সমাজের বিভিন্ন শ্রেণীর লোকের মধ্যে তা কিভাবে বন্টন করা হবে তা নির্ধারণ করা হল সমাজের অন্যতম সমস্যা।উৎপাদিত দ্রব্য সামগ্রী কিভাবে বন্টন করা হলে সমাজের সকল শ্রেণীর মানুষের সর্বাধিক তৃপ্তি লাভ করবে তা নির্বাচন করতে হয়।
পরিবেশে বলা যায় যে মানুষের সীমিত সম্পদ দিয়ে কোন দ্রব্য কী পরিমাণে উৎপাদন করতে হবে কিভাবে উৎপাদন করতে হবে এবং কার জন্য উৎপাদন করতে হবে তা নির্বাচন করতে হয়। এভাবে সীমিত সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহারের মাধ্যমে অসীম অভাব পূরণের চেষ্টা করে।
২ নং
উওর
ক)কোভিড -১৯ হল নতুন খুঁজে পাওয়া করোনাভাইরাস থেকে ছড়ানো একটি সংক্রামক রোগ। এই নতুন ভাইরাস এবং রোগটি ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের উহান শহরে মহামারি হওয়ার আগে বিশ্বের কাছে অজানা ছিল।
খ)কোভিড-১৯ এর কারণে বিলম্বিত হচ্ছে গত ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত হওয়া এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশে। তবে খবরে জানা গেছে, ঈদুল ফিতরের আগে প্রায় ২০ লাখ শিক্ষার্থীর অপেক্ষার অবসান হতে পারে। তবে আটকে গেছে প্রায় ১৩ লাখ পরীক্ষার্থীর উচ্চমাধ্যমিক ও সমমানের (এইসএসসি ও সমমান) পরীক্ষাও।
গত ১ এপ্রিল থেকে এ পরীক্ষা আরম্ভ হওয়ার কথা ছিল। এখন কবে নাগাদ হয় তা অনিশ্চিত।
বছরের শেষে আছে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা (পিইসি) ও জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষা। মাধ্যমিক পরীক্ষা, কলেজে ভর্তি, উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা ও উচ্চশিক্ষায় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি-সবই সময়ের ছকে বাঁধা। করোনায় এসব কার্যক্রমে দেখা দেবে ‘হ-য-ব-র-ল’।
পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার পর পরীক্ষা হয়তো নেওয়া যেতে পারে। কিন্তু শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া ও জানাশোনার কী হবে? এ বিষয়টি তো গুরুত্বপূর্ণ। তাদের জন্য অবশ্যই পাঠ্যবইয়ের প্রতিটি অধ্যায়, অনুচ্ছেদ রপ্ত করা জরুরি। তা না হলে জ্ঞানের এই শূন্যতা জীবনভর রয়ে যাবে!
তাই সক্ষমতা অনুযায়ী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো অনন্তপক্ষে ছাত্র-ছাত্রীদের পড়াশোনার মধ্যে রাখতে পারে। আর সে মাধ্যম হতে পারে ইন্টারনেট ও তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার।
পৃথিবীব্যাপী দিনে দিনে শিক্ষায় প্রযুক্তি বা এডুটেক-এর প্রসার ঘটে চলেছে। শিক্ষাব্যবস্থায় উদঘাটিত হচ্ছে অভূতপূর্ব কিছু ধারণা, তৈরি হচ্ছে নতুন কৌশল। যা জ্ঞানের ভা-ার তথা বিশ্বকে সবার জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছে।
বর্তমানে অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মতো বন্ধ রয়েছে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ও (বশেফমুবিপ্রবি)। তবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘ডিজিটাল বাংলাদেশে’র সুযোগ কাজে লাগিয়ে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় যুক্ত রাখার উদ্যোগ নিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছয়টি (কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং, গণিত, ব্যবস্থাপনা, সমাজকর্ম ও ফিশারিজ) বিভাগেই অনলাইনে বিভিন্ন কোর্সের ক্লাস নেওয়া হচ্ছে।
সম্প্রতি এ কথা শুনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অত্যন্ত খুশি হয়েছেন। এ ক্ষেত্রে প্রিয় সহকর্মী শিক্ষকবৃন্দের একাগ্রতা এবং আগ্রহ আমায় মুগ্ধ করেছে। আর শিক্ষার্থীদের আগ্রহ ও উপস্থিতি বেশ লক্ষণীয়। কিছু সীমাবদ্ধতা থাকা স্বত্ত্বেও কোনো কোনো ক্লাসে তাদের উপস্থিতির হার ৯০ শতাংশ।
শিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে শিক্ষকবৃন্দের সঙ্গে প্রতিনিয়ত আমি ভার্চুয়ালি সভা করছি। কথা বলেছি আমার প্রিয় ছাত্র-ছাত্রীদের সঙ্গেও। অনলাইনে অনুষ্ঠিত ওই সভায় তারা জানিয়ে ভার্চুয়ালি ক্লাস করার অভিজ্ঞতার কথা। তারা এই সময়ে আতঙ্কিত কিংবা হতাশ না হয়ে বরং নিজেদের পড়াশোনার সঙ্গে যুক্ত রেখেছে।
আশা করি ঈদের আগেই প্রতিটি কোর্সের শতভাগ ক্লাস সম্পন্ন হবে। এর ফলে বিশ্ববিদ্যালয় খুললেই তাদের সেমিস্টার পরীক্ষাটা নিয়ে নেওয়া যাবে। এতে তাদের সেশনজটে পড়ার আশঙ্কা থাকবে না।
নতুন বিশ্ববিদ্যালয়- অবকাঠামোসহ নানা চ্যালেঞ্জ রয়েছে। দেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষায় একটা মাইলফলক গড়ে তোলার জন্য আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি। বর্তমানের এই অভিজ্ঞতা অদূর ভবিষ্যতে বশেফমুবিপ্রবিকে ‘স্মার্ট ক্যাম্পাস’ তৈরি করতে ভূমিকা রাখবে বলে বিশ্বাস করি।
উল্লেখ্য, গত ডিসেম্বরে পূর্ব এশিয়ার দেশ চীনের সমুদ্র উপকূলীয় শহর উহানে প্রথম শনাক্ত হয় নভেল করোনাভাইরাস। সেখান থেকে বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল রাষ্ট্রজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে ভয়ানক এই ভাইরাস, এরপর বিশ্ব। যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিন্স ইউনিভার্সিটির ওয়েবসাইটের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী (২০ মে ২০২০), ১৮৮ দেশে হানা দিয়েছে কোভিড-১৯।
এর মাঝেই বন্ধ ঘোষণা করা হয় দেশটির বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও। তবে এই বন্ধেও তারা অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রাখে। চীনের উই চ্যাট বা কিউকিউয়ের মাধ্যমে এসব ক্লাসে যুক্ত হন শিক্ষার্থীরা। প্রায় আড়াই হাজার মাইল দূর থেকেও এসব ক্লাসে যুক্ত হয়েছেন বাংলাদেশি অনেক শিক্ষার্থীও।
ডিসট্যান্স লার্নিং-এর ক্ষেত্রে একেবারে উদাহরণ সৃষ্টি করেছে দেশটির ঝেজিয়াং বিশ্ববিদ্যালয় (জেডজেইউ)। করোনার প্রকোপ শুরু হওয়ার দু’সপ্তাহের মাঝেই সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়টির পাঁচ হাজারেরও বেশি কোর্স অনলাইনে উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। (সূত্র: yju.edu.cn/english)। ফলে এই ই-লার্নিং পদ্ধতির আওতায় চলে আসেন বিশ্ববিদ্যালয়টির সব শিক্ষার্থী।
কিছু কোর্স বিশ্বব্যাপী শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। ফলে বিদেশি শিক্ষার্থীরাও এ সুযোগ পান। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়টির ‘কোর্স হাব’র ব্যবস্থা করে। পাশাপাশি ই-কমার্স কোম্পানি ‘আলিবাবা’র সঙ্গে চুক্তি করে তৈরি করে ‘Ding Talk ZJU’ নামে একটি অ্যাপ; যা প্রায় ৩ লাখ মানুষের মধ্যে দ্রুত পৌঁছে যায়।
তবে সমস্যা একটা থেকেই যায়, সেটা হচ্ছে এমন অনেক শিক্ষার্থী রয়েছেন, যারা প্রযুক্তি ব্যবহারে সেভাবে দক্ষ নন। এই কাতারে আছেন কিছু শিক্ষকও। তাৎক্ষণিক তাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে চীনের হাংঝু এলাকায় প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়টি। ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে ক্লাস শুরু হয়। এর আগেই ৩ হাজার ৬৭০ জন শিক্ষককে এ বিষয়ে দক্ষ করে তোলা হয়।
এমনকি এক হাজার সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীকে এই ডিসট্যান্স এডুকেশনের অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্যে কমমূল্যে ইন্টারনেট ব্যবহারেরও সুযোগ করে দেয় জেডজেইউ।
জানা যায়, ২০১৭ সালে জেডজেইউ স্মার্ট ক্যাম্পাস তৈরির উদ্যোগ নেয়। সম্প্রতি ২০০ স্মার্ট ক্লাসরুম তৈরি করেছে; যেখানে সহজেই শিক্ষকের ক্লাসরুমে পাঠদানের ভিডিও ধারণ এবং সরাসরি অনলাইনে প্রচারের ব্যবস্থা করা সম্ভব।
করোনাকালে আমাদের দেশেও আরও কিছু বিশ্ববিদ্যালয় অনলাইন পদ্ধতিতে শিক্ষার্থীদের ক্লাস নেওয়া শুরু করেছে। গুগল ক্লাসরুম কিংবা অন্যান্য অনেক কোলাবোরেশন সফটওয়্যারের মাধ্যমে শিক্ষকেরা একাধিক শিক্ষার্থীর সঙ্গে ইন্টারেকটিভ ক্লাস নিচ্ছেন, শিক্ষার্থীদের বাড়ির কাজ দিচ্ছেন। এছাড়াও বেশ কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হোয়াটসঅ্যাপ বা ম্যাসেঞ্জার গ্রুপ খুলে শিক্ষার্থীদের যুক্ত করেছে।
Comments
Post a Comment